1. sm.bright420@gmail.com : Asok Halder : Asok Halder
  2. paulsazal16@gmail.com : Sazal Paul : Sazal Paul
  3. rnshakil.cnc@gmail.com : Shafiul Shakil : Shafiul Shakil
  4. sm.bright22@gmail.com : Sujit Mandal : Sujit Mandal
  5. takiakhan109@gmail.com : Takia BSMMU : Takia BSMMU
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

৩’রা ডিসেম্বর এবং বর্তমান আন্দোলন; মোঃ ওবায়দুর রহমান মাসুম

  • আপলোডের সময়ঃ সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১০০৬ বার দেখা হয়েছে।
বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হাজারও বজ্রকন্ঠে সেদিন থেমে গিয়েছিল ভোরের পাখির ডাক। আগে থেকেই ৩/৪ দিন টানা কর্মসূচির পর ২০১৪ সালের ৩ ডিসেম্বর নিজ অস্তিত্ব রক্ষায় আই.এইচ.টি বরিশালের প্রধান ফটকে জড়ো হয়েছিল সকলে। দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম, দশ দফা বুজিনি কিন্ত বুজেছিলাম দারুনভাবে হুমকিতে পেশা, বহুকাল নিয়োগ নাই, আর হুংকার আমাদেরই দিতে হবে , হবেই হবে। কারণ সকল আইএইচটি এখনও চাঙ্গা হয়নি। আন্দোলন কমিটির সভাপতি হোসেন ভাইয়ের নির্দেশে, সিনিয়র ভাইয়েরা আমাদের নিয়ে স্লোগানে ভাসালেন পুরো শেবাচিম ক্যাম্পাস, ভোরের কুয়াশা কাটেনি কিন্ত কেটেছে আমাদের সকল ধৈর্য্যের বাঁধ। সকাল ১০ টার কিছু পরে বান্দরোডস্থ শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে মূল ফটক আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা।

১১ টা বাজার আগেই পুলিশ,গোয়েন্দা আর সাংবাদিকে ভরপুর। আমাদেরও দাবী, এখান থেকে ঘোষনা ব্যতীত কেহ নড়বো না। মানবঢাল তৈরি করে বোনেরা চারপাশে দাঁড়িয়ে গেল। মাঝখানে তুমুল শব্দে সেদিন কেঁপেছিল কীর্তনখোলার তরঙ্গ। প্রশাসন প্রস্তুত ছত্রভঙ্গ করতে কিন্ত ফলাফল নাই। আন্দোলন সভাপতি হোসেন ভাই ততক্ষনে পুলিশের জিম্মায়, তিনি সাফ জানালেন আন্দোলন তার একার নয় সকলের, তিনি একা সড়ে যেতে পারবেন না। আরও ফোর্স মোতায়েন করা হল, স্লোগানে উজ্জীবিত শত কন্ঠকে সেদিন লক্ষকন্ঠ মনে হয়েছিল। সাড়া পড়েছিল পুরো বাংলায়।

ব্রেকিং নিউজ চলছে সকল চ্যানেলে, কিন্ত এর মাঝেই উপস্থিত করা হল অধ্যক্ষ ডা. কুমুদ রন্জন স্যার কে। তার অনুরোধে এবং প্রশাসনের আশ্বাসে সেদিনকার বোনদের মানবঢাল পেরিয়ে বের হতেই শুরু হয় পুলিশের এলোমেলো হামলা। যে বোনরা আমাদের রক্ষা করেছিল আমরা পারিনি তাদের সম্মান রাখতে। মিডিয়া দেখেছে কত শত বোনদের উপর হামলা হয়েছিল। কত বিবৎস ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল ভাইদের। ভারী হয়ে ছিল পুরো বরিশালের বাতাস, কতশত এপ্রোন রাস্তায় পড়ে ছিল ইয়াত্তা নাই, সারারাতভর সিনিয়দের তৈরি করা প্লেকাডগুলো সেদিন পড়েছিল ড্রেনে, পিষে গেসে বহু পায়ের ছাপে। মিডিয়া সরব, টেকনোলজিস্ট নেতারা সরব, সারাদেশে মানববন্ধন হল, প্রতিবাদী সমাবেশ হল, মন্ত্রী সাহেব মাইনরস দিল, ফলাফল শুন্য। সেই স্বাক্ষরিত মাইনরস যা তিনমাসে কার্যকর করার কথা তা অদ্য পাঁচ বছরেও হয়ে ওঠেনি। সম্ভাবনাও নাই আগামী কয়েক বছরে কারণ ততদিনে জটিলতা আরও বহুগুন বেড়েছে।

এবার একটু ভিন্ন খাতে আসি ; কিছু প্রশ্নের জবাব আমার মন এখনও পায়নি ; কথা হল অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে হামলা, তিনি অনুরোধ করার পর যখন অবরোধ তুলে নেয়া হল তখন কেন হামলা হল? এ দায় কি তিনি নিয়েছিলেন? তারপরে বহুত পেশাজীবী নেতারা অনেকে সান্ত্বনা দিয়েছিল পেশার জন্য অনেক অর্জন তারা আমাদের দিয়েছেন (!) দেখেছি পাঁচ বছর আগে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকা এই আমি। বর্তমানে পেশার ছাত্র আন্দোলন নাই, সবাই ছাত্র-শিক্ষক হালুয়া নিয়া বিদি ব্যস্ত, ভবিষ্যৎ পেশা নিয়া পাস করার পরই শুধু ভাবে। এই সুযোগে বহু মুশোখধারী নিজেদের শরীরে আন্দোলনের ট্যাগ লাগায়। আর প্রকৃত আন্দোলনকারীরা ভূয়াদের দাপট দেখে মুখ লুকায়। যেমনটা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীর পিতা হত্যার পর। মোশতাক-এরশাদ-জিয়া’র সরকাররা হেনস্তা করেছিল, স্বাধীনতাবিরোধীদের তুলে দিয়েছিল লাল-সবুজ পতাকা তেমনি আইএইচটি বরিশাল এখন এমনি শকুনের কালো থাবায় আচ্ছাদিত। এর থেকে বের হবার উপায় খুবই সামান্য। ছাত্র রাজনীতি এখন শিক্ষরাই করেন। পেশার অস্তিত্ব রক্ষায় নানা নাটক দেখসি, নির্যাতিতরা মঞ্চে নাই, গ্রেফতারকৃতরা মঞ্চে নাই, মঞ্চ এখন বিকৃতকারীরা। মুজিব সরকার পরবর্তীরা যেমনিভাবে ইতিহাস পাল্টে দিতে মরিয়া ছিল তেমনি পেশার উৎসর্গকারীদের হটিয়ে মঞ্চ এখন পরিমলরা রাজ করে। ইতিহাস পাল্টে দেয়, আন্দোলনকারীরা হয় চাঁদাবাজ, গ্রেফতারকৃতরা হয় বখে যাওয়া। আর নবীনরা প্রভুময় শিক্ষকদের সেবায় সদা নিয়োজিত। বছরে একদিন শোকের নামে মহাউৎসবে বহু ব্যস্ত দিন কাটায়।

আমাদের সময়ে সিনিয়ররা হেঁটে হেঁটে প্ল্যাকার করত, মিডিয়া পাড়ায় বহুরাত আমি নিজেও কাটিয়েছি, বহু রাত প্লান করে বেড়িয়েছি আর এখন? ছাত্র নেতারা ক্যাম্পাসের মোড়ের চা’য়ের দোকানেও রিকশাযোগে আসে। ভাল লাগে। বহু উন্নত পেশা। আরতো কয়েকটা দিন; পুরনোদের অসম্মান করার ফলাফল যেমন সদ্য সাবেকরা পায় তেমনি তোমরাও পাবে, ইতিহাস তোমাদের পরিমল স্যার বিকৃত করতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।

যে রক্ত সেদিন টকবগে হয়েছিল, তার পর যারা এর ধারাবাহিকতা রেখেছিল, তারা একদিন হলেও গর্জে উঠবে, মুখোশধাীরদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে আসছে হয়তো নতুন কোন ভোর। যে ভোরের আলো হবে পুরোটাই মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের জন্য। শুভকামনা রইল।

লেখক পরিচিতি : সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক, সর্বদলীয় আইএইচটি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, বরিশাল। ‘১৪ এর আন্দোলনে নির্যাতিত এক শিক্ষার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিডিনার্সিংনিউজ.কম
কারিগরি সহায়তায়- সুজিৎ মন্ডল