1. sm.bright420@gmail.com : Asok Halder : Asok Halder
  2. paulsazal16@gmail.com : Sazal Paul : Sazal Paul
  3. rnshakil.cnc@gmail.com : Shafiul Shakil : Shafiul Shakil
  4. sm.bright22@gmail.com : Sujit Mandal : Sujit Mandal
  5. takiakhan109@gmail.com : Takia BSMMU : Takia BSMMU
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

সারা রাত মাথার কাছে বসে ছিলেন নার্স শোভা, নার্সিং সেবায় বাংলাদেশ

  • আপলোডের সময়ঃ মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০
  • ১২৯৩ বার দেখা হয়েছে।
বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিডি নার্সিং নিউজঃ সেটি ছিল ১৪ জানুয়ারি ১৯৯৪ সাল। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের ছোট্ট একটি ক্লিনিক, সেখানে আমার স্ত্রীর বুকে অপারেশন হয়েছে। রাতে অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে থাকার আয়োজন করতেই ১৮/১৯ বছরের একটি মেয়ে এসে বললেন, ‘দাদা হোটেলে চলে যান’। বললাম, ‘প্রথম দিন একটু থাকি?’ তিনি আশ্চর্য হয়ে বললেন, ‘কেন দাদা, আমরা আছি না, দিদির কোনো অসুবিধা হবে না, আপনি চলে যান।’ পরদিন সকালে আমার স্ত্রীর বক্তব্য, ‘শোভাদি সারা রাত মাথার কাছে বসে ছিলেন, একটুও ঘুমোননি। যখনই আমার ঘুম ভেঙেছে তিনি উত্সুক নেত্রে ঝুঁকে জিগ্যেস করেছেন, ‘দিদি কোনো অসুবিধা হচ্ছে, কষ্ট পাচ্ছেন, কিছু লাগবে? আমার আপন বোন থাকলেও হয়তো এতটা করতেন না।’ কলকাতার শোভা দিদি আজও আমাদের কাছে ফ্লোরেন্স নাইটেংগেল, ভার্জিনিয়া হেন্ডারসনদের প্রতিনিধি হয়ে আছেন। আজকের বাংলাদেশের বিশেষ করে করোনাকালে বা পরবর্তীকালে নার্সিং সেবা বা পেশার অবস্থান কোথায় তা একটু পর্যালোচনা করা যেতে পারে। বলাবাহুল্য ফ্লোরেন্স নাইটেংগেলের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০-কে আন্তর্জাতিক নার্স ও ধাত্রী দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। করোনার কারণে বিশ্বের স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল এমনকি উন্নত দেশসমূহের স্বাস্থ্য খাত আজ বিপর্যস্ত। তাই এ খাতের গুরুত্ব ও এর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিশ্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে জীবনের প্রয়োজনে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, সংস্কার, পরিধি এবং এর বিশেষায়ণ বিশেষভাবে উপলব্ধি করছে বিশ্ববাসী। এটি সহজে অনুমেয় যে মানুষের জন্য বর্তমানের তুলনায় আগামী বিশ্ব আরো বেশি বিপদসংকুল। তাই ভবিষ্যত্ স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রয়োজন প্রস্তুতি, পরিকল্পনা, সংস্কার এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ খাতকে আগামীর জন্য ঢেলে সাজানো। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বড় ধরনের গুণগত বিনিয়োগ, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা। সরকার এককভাবে সবকিছু করতে সক্ষম হয় না। তাই দেশের উন্নয়নে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সকলের সম্মিলিত প্রয়াস ও সহযোগিতা। ১৮ কোটির জনসংখ্যার এই দেশ ২০৫০ সালে ২৫ কোটিতে উপনীত হবে। ধীরে ধীরে এ দেশে বয়স্ক মানুষের আধিক্য ঘটবে এবং আমরা উন্নত বিশ্বের ন্যায় বয়স্ক মানুষজনিত সমস্যায় উপনীত হব। তাই তাদের চিকিত্সা ও সেবার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রয়োজন হবে এক বিশাল দক্ষ কর্মীবাহিনী/ নার্স। কিন্তু বাংলাদেশে দক্ষ নার্স তৈরির সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও আমরা অদ্যাবধি প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্যসংখ্যক নার্স তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এ দেশে প্রায় ২০ লাখ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং প্রায় ১২ লাখ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তাদের স্ব স্ব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের একটি বড় অংশ কারিগরি জ্ঞানের অভাবে বেকার হয়ে পড়ে। আর যারা বিদেশে যায়, তারা অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে সামান্য বেতনে চাকরি করে। এছাড়া সরকারি নানামুখী প্রচেষ্টা আর উদ্যোগে গ্রামীণ জনপদের মেয়েরাও বর্তমানে শিক্ষায় অনেক অগ্রসর। তারা যদি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষায় শিক্ষিত হয় তবে তারা পরিবার ও সমাজের কল্যাণে অনেক বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হবে। বর্তমান সরকার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার উন্নয়নে নজর দিয়েছে। ইতিমধ্যে নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দিয়েছে এবং করোনাপূর্ব ও উত্তর সরকারি হাসপাতালে প্রায় ১০ হাজার নার্স সরকারিভাবে নিয়োগ পেয়েছে। তাই বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে নার্সের অভাবে রোগীদের সেবা প্রদান বর্তমানে দুরূহ হয়ে পড়েছে। তাই স্বাস্থ্য খাতে নার্স ও মিডওয়াইফারি কর্মীর চাহিদার কারণে এ খাতে চাকরি তথা শিক্ষালাভের জন্য যুবক ও যুবতিরা উন্মুখ হয়ে আছে। কারণ, দেশে এ খাতে নার্সি ও মিডওয়াইফারির দক্ষ কর্মীর যেমনি চাহিদা রয়েছে তেমনি বহির্বিশ্বে উচ্চ বেতনে চাকরি লাভের সুযোগ রয়েছে। এ সব কারণে সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দেশ বিদেশের চাহিদা পূরণ করতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের অনেক উন্নতি হয়েছে, বেড়েছে মাথাপিছু গড় আয়। বর্তমানে এদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩.৪ বছর। অপর দিকে থাইল্যান্ডের ও জাপানের মানুষের গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৫ এবং ৮৪ বছর। বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার জনের বিপরীতে ০.৬৩ জন ডাক্তার আর প্রতি ৪ হাজার ০৮১ জনের বিপরীতে মাত্র একজন নার্স রয়েছে। বিএসসি এবং ডিপ্লোমা মিলিয়ে দেশে নার্স রয়েছে প্রায় ৭১ হাজার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মোতাবেক ডাক্তার ও নার্স অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩। কিন্তু একজন ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছে ০.৫৬ জন নার্স। যার কারণে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সেবাদানের চিত্র অতি করুণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ দেশেই প্রতি ১ হাজার লোকের জন্য রয়েছে মাত্র ৪ জন বা তার চেয়ে কমসংখ্যক নার্স। নার্স ঘনত্বের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ফিনল্যান্ড, ১ হাজার লোকের জন্য ১৭ জন এবং তার পরেই আয়ারল্যান্ড ১৪ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম নার্সসম্পন্ন প্রথম পাঁচটি দেশ আফ্রিকায়। বাংলাদেশের অবস্থান ছয় নম্বরে। এদেশে ডিপ্লোমা ইন নার্সিংসায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি বিষয়ে ৩ বছর মেয়াদি কোর্স করার জন্য ১২ হাজার ৫১০ আসনের ২৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ২৫৫ আসনের ১০০টি। ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারির জন্য রয়েছে ২ হাজার আসনের মাত্র ৬৯টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বেসরকারিভাবেও অনেক উদ্যোক্তা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট ও কলেজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসছে। তবে সেখানে রয়েছে উপযুক্ত নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষকের ঘাটতি। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে যে দক্ষ নার্স ও ডাক্তার রয়েছেন তাদের যদি সরকার বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন প্রশিক্ষণ প্রদানের অনুমোদন দেয়, তবে সে ঘাটতি পূরণ হতে পারে। এছাড়া যেসব নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সক্ষমতা অর্জন করেছে তাদের প্রতিষ্ঠানসমূহের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি ভর্তি কোটা বৃদ্ধি করে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ইতিমধ্যে দেশে ফিরতে শুরু করেছে। যে স্থানটি নার্সিং ও মিডওয়াইফ কর্মী দ্বারা পূরণ করে পূর্বের তুলনায় অধিক গুণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেতে পারে। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে যদি প্রতিটি জেলায় একটি করে নার্সিং ও একটি করে মিডওয়াইফ ইনস্টিটিউট এবং উপজেলা পর্যায়ে একটি করে নার্সিং কিংবা মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে দক্ষ নার্স ও ধাত্রী তৈরি করে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে ও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী পাঠাতে সক্ষম হবে এবং এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যলাভের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তাই এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন ত্বরিত সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা।

লেখক :সাবেক সচিব ও রেক্টর,

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিডিনার্সিংনিউজ.কম
কারিগরি সহায়তায়- সুজিৎ মন্ডল