1. sm.bright420@gmail.com : Asok Halder : Asok Halder
  2. paulsazal16@gmail.com : Sazal Paul : Sazal Paul
  3. rnshakil.cnc@gmail.com : Shafiul Shakil : Shafiul Shakil
  4. sm.bright22@gmail.com : Sujit Mandal : Sujit Mandal
  5. takiakhan109@gmail.com : Takia BSMMU : Takia BSMMU
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:২২ অপরাহ্ন

করোনা ভ্যাকসিনঃ আমাদের রোল নংও একদিন ১ হবে

  • আপলোডের সময়ঃ শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০
  • ৫২২ বার দেখা হয়েছে।
বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে ১৪০ টির বেশি জায়গায় করোনার ভ্যাক্সিন আবিস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আবেগের গল্প ফাঁদা হয়েছে মাত্র ১ টি জায়গায়। জ্বি, সেটা বাংলাদেশে।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে ফেলছে। গরীবের ছেলে রিকশা চালিয়ে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। অনেকে অভিনন্দন জানাচ্ছে, উল্লাস করছে। যারা অভিনন্দন জানাচ্ছে না, তাদেরকে ছোট মনের মানুষ ঘোষণা দিয়ে ফেলছে কেউ কেউ। এতো কারেন্ট কেন ভাই আপনাদের?

বায়োটেকের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার নিয়ে কোন ট্রল এখন পর্যন্ত দেখি নাই। তবে ট্রলকারীদের নিয়ে উল্টো হাসাহাসি করা পোস্ট দেখলাম বিশ পঁচিশটা। কিছুদিন আগে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আবিষ্কৃত কিট নিয়েও বহু বিপ্লব হলো। পরে গণস্বাস্থ্য জানালো তাদের কিট টেস্ট এর জন্য না।

করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে কথা বলার আগে বেসিক কিছু বিষয় জানা দরকার। এই জ্ঞানটুকুর জন্য ডাক্তারী জ্ঞান লাগবে না।

ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের পর চার ধাপে পরীক্ষা করা হয়।

শুরুতে প্রি ক্লিনিক্যাল ধাপ। এই পর্যায়ে বিজ্ঞানীরা মূলত পশুর শরীরে ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করেন। এবং পর্যবেক্ষণ করেন। এটি সফল হলে শুরু হয় প্রথম ধাপের পরীক্ষা।

এই পরীক্ষায় অল্প কিছু মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়। এখানেও সফল হলে দ্বিতীয় ধাপে শত মানুষের শরীরে এবং সফল হলে তৃতীয় ধাপে কয়েক হাজার মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়। এবং তৃতীয় ধাপও ঠিকঠাক পার করলে তবেই সেটাকে ভ্যাক্সিন বলা চলে।

পুরো প্রসেসে কয়েক বছর সময় লাগে। তবে করোনার ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন ঘোষণা করে সেই সময়টাকে ১২-১৮ মাস ধরা হয়েছে।

বায়োটেকের ভ্যাক্সিন খরগোশের শরীরে সফল হয়েছে। অর্থাৎ প্রি ক্লিনিক্যাল স্টেজ পার। এখন আসল খেলা শুরু। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ। মিনিমাম এক বছরের মামলা। এবং প্রতিটা ধাপই সফলভাবে পার হতে হবে।

বর্তমানে ১৪০ টি ভ্যাক্সিনের মধ্যে ১২৫ টি আছে এই প্রি ক্লিনিক্যাল ধাপে। তৃতীয় ধাপে আছে মাত্র ৩ টি ভ্যাক্সিন। এবং চীনারা শুধু তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে একটি ভ্যাক্সিন। তৃতীয় ধাপে যে ৩ টি ভ্যাক্সিন আছে, তারা জানিয়েছে সবকিছু ঠিক থাকলে তাদের ভ্যাক্সিন আনতেও কমপক্ষে ছয় মাস লাগবে।

প্রি ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে থাকা ১২৫ টি ভ্যাক্সিনের মধ্যে যদি আমাদের গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাক্সিন থাকে সেটা অবশ্যই অনেক বড় সুসংবাদ। আমাদের মত গবেষণা বিমুখ দেশে আশার বাণী। যারা এর সাথে জড়িত তারা প্রত্যেকেই বাহবা পাওয়ার দাবীদার। সেজন্য অন্য কাউকে ব্লেইম দেয়ার প্রয়োজন নেই।

আপনি যদি আশা করেন, প্রি ক্লিনিক্যাল ধাপে থাকা একটা ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের আনন্দে সবাই আপনার মত আনন্দে মাতোয়ারা হবে সেটা আপনার ভুল। মানুষ হাসাহাসি করতেই পারে। কারণ মানুষ ইতিমধ্যেই অনেক নাটক দেখেছে। মানুষ বার বার আশা করেছে। ধোঁকা খেয়েছে। অনেকেই মানুষের আবেগের গল্প বিক্রি করে নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য করে ফেলেছে।

অন্যকে ব্লেইম না দিয়েও প্রশংসা করা যায়। গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাক্সিন সফল হোক এটাই সবার চাওয়া। ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের দৌড়ে আমরা হয়তো প্রথম হবো না, তবে সেটা কোন সমস্যা না। ক্লাসে ১ রোলের ছাত্র থাকে, ১০০ রোলের ছাত্রও থাকে। সেখানে পৃথিবী নামক ক্লাসে আমাদের দেশ যদি মেধাতালিকায়ও থাকে সেটাও গর্বের। কে জানে, এভাবে চেষ্টা করতে করতেই হয়তো আমাদের রোল নংও একদিন ১ হবে..

লেখকঃ মিকসেতু মিঠু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিডিনার্সিংনিউজ.কম
কারিগরি সহায়তায়- সুজিৎ মন্ডল