1. sm.bright420@gmail.com : Asok Halder : Asok Halder
  2. paulsazal16@gmail.com : Sazal Paul : Sazal Paul
  3. rnshakil.cnc@gmail.com : Shafiul Shakil : Shafiul Shakil
  4. sm.bright22@gmail.com : Sujit Mandal : Sujit Mandal
  5. takiakhan109@gmail.com : Takia BSMMU : Takia BSMMU
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

আমি ও আমার নার্সিং গল্প

  • আপলোডের সময়ঃ রবিবার, ২১ জুন, ২০২০
  • ৫১৫ বার দেখা হয়েছে।
নার্স তাসলিমা সিকদার
বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখকঃ তাসলিমা সিকদার , নার্সিং অফিসার

কজন নার্স উচ্চ শিক্ষিত হবার জন্য পিছনের গল্প কতটা করুন হতে পারে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তারপরও জুনিয়র তকমা দিয়ে দেওয়া সাথে পড়াটাকেই কেন পাপ মনে করতে বাধ্য করা হয় তার একটা ছোট গল্প।যদি সময় থাকে একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন প্লিজ।

পিছনের গল্পঃ জন্ম তারিখ বিভ্রাট

আমার জন্ম তারিখ ০৭/০৩/১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ
আমার সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম তারিখঃ ০৭/০৩/১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ।

কারণ আমার আম্মু তৎকালীন সময়ে সপ্তম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয় এবং আমার ৩ বছরের বড়বোন ও আমার বয়স যখন ৩ বছর তখন আবারো স্কুলে ভর্তি হন যেকারণে মায়ের সাথে স্কুলে গিয়ে ও বড়বোন Bulbul Naharও ১/২বছরের বড় আমার ছোট মামা Md.Sultan Mahmudএর সাথে ক্লাসে বসে থাকলাম পড়া না বুজলেও ক্লাস টপকিয়ে উপরের ক্লাসে উঠে যেতাম,,আর পড়াটা বুঝলাম চতুর্থ শ্রেনীতে গিয়ে,, পঞ্চম শ্রেণির সেন্টার পরিক্ষা তখন হতো (কয়েকটি ইউনিয়নের স্কুল গুলো একজায়গায় পরিক্ষা হতো) তখন ফ্রাস্ট ডিভিশনে পাশ করলাম।

সেই থেকেই আমার পড়া ভালোলাগাটা শুরু হল

জীবন আমাকে বহুবার শিক্ষা দিয়েছে আর এইটা শুরু হয়েছে খুব ছোটবেলা থেকেই

আমি যে স্কুলে পরতাম ঐ স্কুলে আমি যে বছর নাইনে পরতাম ঐ বছর প্রথম বিজ্ঞান বিভাগ শুরু হয় হয় আর আমিই একমাত্র ছাত্রী যাকে নিয়ে ঐ স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়।

শিক্ষক নাকি কেরানি কার ভূলের কারণে আমি জানিনা আমার উচ্চতর গনিত ফোর সাবজেক্ট এর পরিবর্তে সাবজেক্ট ডিনাই করে দেয় কিন্তু আমি জানতাম না সাড়া বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করি এবং আমার এসএসসি প্রবেশ পত্রে যে বিষয় কোড নেই সেটা আমি কোনভাবেই বুঝতে পারিনি ফলে ৮২ নম্বর পাই যেখানে ৪২ নম্বর যোগ হবার কথা থাকলেও সাবজেক্ট ডিনাই ছিল,, ভূল বসত পরিক্ষা কেন দিলাম সেই কারনে স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট আসলেও আমার রেজাল্ট হোল্ড হয়ে যায়।

সাল টা ছিলো ১৯৯৭,, দীর্ঘ ৪ মাস যোগাযোগের পর শর্তসাপেক্ষে আমাকে রেজাল্ট দেওয়া হয় উচ্চতর গনিতের নম্বর বাদে তখন আমি মানসিকভাবে অত্যান্ত ভেঙে পরেছিলাম আর সেই সময়ে প্রত্যান্ত গ্রামে বসবাস ছিল,, বলা চলে প্রিভিলেজেজ ছিলাম তাই কোনভাবেই আমি দ্বিতীয়বার পরিক্ষা দিতে চাইনি।

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এ্যান্ড মিডওয়াইফারি

সবাই কলেজে যেতো আর আমি ঘরেই বসে থাকতাম এর মধ্যেই নার্সিং এর ফরম ছাড়ে আর আমি নার্সিং সম্পর্কে কোনকিছু না জেনেও কোথাও ভর্তির সময় না থাকায় এখানেই ভর্তি হয়ে যাই।

হুম মেনে নিতে কষ্ট হতো কিছু স্যার ক্লাসে বলতো তুমি এখানে কেন ভর্তি হয়েছো ভালো জায়গায় পড়তে পাড়তে কিন্তু উত্তরটা ছিলো নিরব।

এইভাবেই মেনে নিয়েছিলাম নার্সিং পেশাকে আর বরাবরের ভালো রেজাল্ট ও শিক্ষকদের ভালোবাসায় ভালোবেসে ফেলি এই পেশাকে আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন Bilkis Begum Laila Arjumand Dr Md Shafiul Islam,, Wahida Khatun,,

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এ্যান্ড মিডওয়াইফারি ফাইনাল পরিক্ষায় বাংলাদেশ নার্সিং এ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্হান পাই ৩০৯ নং পেয়ে উত্তীর্ণ হই ২০০১ সালে।

পরবর্তীতে এইস,এস,সি পাশ করি খুব ভালো রেজাল্ট নিয়ে। তখনকার জার্নিটাও সহজ ছিলোনা আমার পারি দিতে হয়েছে বিশাল সমুদ্র ।তারপরও কিছু পড়ালেখা শেষ করি।

সরকারি চাকরি হয় ২০১০ সালে মেধাক্রম অনুসারে নিয়োগে।স্বামীর অনুমতি বিহীন বিভিন্ন ঝরঝাপটা উপেক্ষা করেই চাকরিতে জয়েন করি।

সরকারি ভাবে পরবো তাই অপেক্ষা করছিলাম ২০১৩ সালে বিএসসির ফরম তুলবো কিন্তু জুনিয়র তকমায় পরিচালক মহোদয় কোনভাবেই আমাদের অনুমতি দিলেন না,,কিচ্ছু করার নাই কারন নার্সিং পেশা তখন এবং এখনও অনেকভাবেই নির্যাতিত মেধা থাকা সত্বেও আগানোর কোন সুযোগ নেই।

বিএসসি ইন নার্সিংঃ🎓🎓

পরের বছর নিজেকে তৈরি করলাম পরিক্ষা দিলাম ভর্তি পরিক্ষার রোল ছিল ৭০০১ একটা দারুণ রেজাল্ট হলো তারপরও পরিচালক মহোদয় কোনভাবেই ছারবেন না অনেক কিছুর পর পড়তে গেলাম।

বগুড়া নার্সিং কলেজে ভর্তি হলাম ক্লাস ১ লা জুলাই থেকে কিনতু ভাগ্য আমাকে ছার দেয়নি ২২শে জুন আমার স্বামীর অসুস্হ্যতার কারনে অপারেশন করা হয় এ্যাপোলো হাসপাতাল ঢাকায় আমি ২১ দিন পর ক্লাসে নিয়মিত হতে পারলাম।

প্রথম বর্ষ ফাইনাল পরিক্ষার ঠিক তিনদিন আগে বাবার
হার্ট অ্যাটাক হয় বাবাকে বগুড়া মেডিকেলে ভর্তি রেখে আমি কোনভাবে পরিক্ষা দেই এবং পরিক্ষার শেষ হবার পরেরদিনই বাবাকে ন্যাশলাল হার্ট ফাউন্ডেশন ঢাকায় হার্টের বাইপাস সার্জারি করাই। আমার বিএসসি প্রথম বর্ষ পরিক্ষার রেজাল্ট হয় আমি প্রথম হই।

দ্বিতীয় বর্ষ পড়াশোনাতে মনোযোগী হই ঠিক তখনই ভাগ্য আবারও আমাকে কঠিন পরিক্ষায় ফেলে আমি জানতে পারি আমার ছোট মেয়ে প্রোফাউন্ড হেয়ারিং লস নিয়ে বেঁচে আছে,,(হার্টের অসুখটা জানতান এবং প্রতিমাসে ঢাকায় নিয়ে আসতাম)তখন আমার বান্ধবী Tahmina Halim এর কাছে থেকে সাহিক হেয়ারিং ইন্টেগ্রেটেড স্কুলের কথা জানতে পারি এবং কামরুন নাহার ম্যাম ও Mohammed Abu Taleb স্যারের তত্ত্বাবধানে রেখে আমি মেয়েকে ঢাকায় সিফট করি সাথে ছোটবোন কে দিয়ে স্কুলের পাশে বাসা ভাড়া নিই।আর আমি বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষে বাসে উঠি আর শনিবারে এসে বগুড়ায় ক্লাস ধরি।

আমি এতোটাই পরতে চাইতাম কিন্তু সময়ের পাল্লায় আমি হেরে যেতাম আমি সকালে রান্না করে বগুড়া থেকে ঢাকা গামী বাসে খাবার দিতাম আমার সাড়ে তিন বছর বয়সের মেয়ের জন্য আর বাস স্ট্যান্ডের কাছেই বাসা ছিলো তাই ওখান থেকে ওরা খাবার নিয়ে নিতো।

আমার পড়ার জায়গা ছিল বাস,ট্রেন অথবা যখন যেভাবে, বাসার সাদা পর্দার উপর কালো পর্দা লাগিয়ে ছিলাম যেন সকালটা দেরিতে দেখতে পারি তাই,, কারন সারারাত না পড়লে পরিক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারতাম না।

আল্লাহর রহমতে বিএসসি ফাইনাল পরিক্ষায় ১৮ সাবজেক্ট অনার্স মার্কসহ ২২৬১/২৬০০ মার্ক নিয়ে প্রথম হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বগুড়া নার্সিং কলেজের হয়ে ২০১৬ সালে পাশ করি😀😀😀

এমএসসি ইন নার্সিং🎓🎓🎓🎓

বিএসসি শেষ হবার ৩ মাসের মধ্যেই জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট মহাখালী, ঢাকায় বদলি হই মেয়ের জন্য। ভাগ্য এখানে ও বাধ সাধে মেয়ের ক্লাস দুপুর ২ঃ৩০ থেকে তাই আমরা সকাল ডিউটির প্রয়োজন তাই কিভাবে মেয়েকে ক্লাসে সময় দেওয়া যায় এই চিন্তা মাথায়,, স্কুলটি ছিলো নিপসম এর সামনে তাই যেকরেই হোক আমাকে নিপসমে চান্স পেতে হবে চেষ্টা শুরু হয় রাতময় (NCLEX সাইডগুলো ও একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলাম নিপসম এর জন্য) ,, আর পেয়ে ও যাই,,, নিয়েনার এ পরিক্ষা দেই কৌতুহল বসত সেখানেও চান্স পাই আর সিদ্ধান্ত হীনতায় ভূগতে থাকি কোথায় ভর্তি হবো এবং ফেসবুকে লিখে দেই তখন Dr Prof-Anisur Rahman Forazyস্যার, Chowdhury A. Haider Khadija MiniSuchitra Suchi, apu Sumi Reza আরও অনেকে আমাকে নিয়েনারে ভর্তি হতে বলে।

আর একটা কথা না বললেই নয় মেন্টাল হেল্থ সাবজেক্ট আমার ১ নং চয়েজ ছিলো কারন আমি যখন বিএসসি ভাইবা দিচ্ছিলাম তখন ডাঃ পরিতোষ কুমার স্যার সাইকিয়াট্রিস্ট উনি আমাকে বলেছিলেন যদি পারেন তাহলে সাইকিয়াট্রিক নার্সিং এ এম,এস করবেন কারন আমি জানি আপনি পারবেন।

নিয়েনারে দুই সেমিস্টার শেষ হবার আগেই মেয়ের কোর্স শেষ হয় আর বড় মেয়ের তখন সামনে জেএসসি পরিক্ষা,,,, ঠিক তখনই ভাগ্য আমাকে পিছন থেকে টেনে ধরে
একদিকে এমএসএন তৃতীয় সেমিস্টার মানে ভয়াবহ অবস্থা ওদিকে আমার স্বামী মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয় ডাঃ দীন মোহাম্মদ ঐদিনই অপারেশনের কথা বলে দেয় করেও ফেলি ২৬ দিন অনিয়মিত হয়ে পরি সারাদিনরাত রুগি আর ঘুমিয়ে পরলে এ্যাসাইনমেন্ট করে জমা দেবার জন্য ছুটে চলি,, মেয়েদেরকে সিরাজগঞ্জ পাঠিয়ে দিই ওর বাবা সহ ওদের এবং আমার সুবিধার কথা ভেবে।

নিয়েনারে ক্লাস টেস্ট, এ্যাসাইনমেন্ট,প্রজেক্ট সব মার্ক যোগ হয় নিয়ম অনুযায়ী আর টানাপোড়োনে আমি পিছিয়ে পরি সিজিপিএ ৩.৬০ /৪পেয়ে পাশ করি কিন্তু এইটাও খারাপ রেজাল্ট নয় আউট অব ফোর ৩.৬০ অনেক ভালো রেজাল্ট আমি অসম্ভব খুশি কারন এতো প্রতিকুলতায় আমি টিকে থাকতে পেরেছি।

২২শে ফেব্রুয়ারী ২০২০আমার থিসিস পেপার ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে পাবলিস্ট হয়।

দীর্ঘ ১০ মাস যুদ্ধ করেও আমি সিরাজগঞ্জ আসতে পারিনি ঠিক কি অন্তরায় ছিলো আমি ঠিক জানি না ডিজিএনএম এ অনেক বার গিয়েছি কিন্তু জুনিয়র তকমা গায়ে লেগেই আছে।😥😥😥😥

২০ বছরের নার্সিং জীবন আর প্রায় ১০ বছরের সরকারি চাকরি তারপরও আমাকে এতো চরাই উতরাই এর পরেও পরিবারের টানে আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ আসতে বাধ্য হয়েছি কারণ আমি আমার স্বামী ও দুই সন্তানের কাছে কৃতজ্ঞ।ওদের আমি আমার পড়াশোনার জন্য অনেক বঞ্চিত করেছি।

আমার টার্গেট আমি নার্সিং শিক্ষার রুট লেবেলে কাজ করতে চাই।
মেন্টাল হেলথ এর নার্সিং টিচার হতে চাই,

আমার নিজ জেলায় স্কোপ
১) শেখ হাসিনা নার্সিং কলেজ সিরাজগঞ্জ ( নির্মানাধীন)
২) নার্সিং ইনস্টিটিউট সিরাজগঞ্জ।

কবে সিনিয়র হব জানিনা😪😥😥😥😥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো খবর
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। বিডিনার্সিংনিউজ.কম
কারিগরি সহায়তায়- সুজিৎ মন্ডল